সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

242
নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া

অনলাইন দুনিয়ায় একটা বিশাল অংশ জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্য। যা আমরা ভার্চুয়াল সমাজ হিসেবেও চিনি। এক পরিসংখানে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত সারাবিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ বিলিয়ন। অর্থাৎ, এই বিশাল কমিউনিটিতে আমরা কোনভাবে না কোনভাবে যুক্ত। তাই, এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সুবিধাও যেমন আছে। তেমনি আছে নানারকম হুমকি! কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অবাধ বিচরনে নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, নিরাপদে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো ব্যবহারের জন্য আপনাকে মানতে হবে কিছু বিষয়। এমনই কয়েকটি টিপস শেয়ার করা হল আজকের পোস্টে। যেগুলো মেনে চললে আপনি পাবেন একটি নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া লাইফ।

প্রাইভেসি সেটিংস গুরুত্বের সাথে মেনে চলুন

আপনি যে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মই ব্যবহার করুন না কেন। সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে প্রয়োজনীয় অনেক প্রাইভেসি সেটিংস। অর্থাৎ আপনার প্রফাইলের তথ্য, পোস্টগুলো কারা দেখতে পারবে কিংবা কারা কমেন্ট করতে পারবে। এরকম খুটিনাটি বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই। এজন্য আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রাইভেসি সেটিংস যথাযথভাবে সেট করতে হবে। আপনি নিশ্চই চাইবেননা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা কোন পোস্ট অপরিচিত কেউ দেখুক। কিংবা অন্য কেউ আপনার পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্য করুক। আর তাই এসব বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার প্রতিটি অ্যাক্টিভিটির যথাযথ প্রাইভেসি মেনে চলুন।

সবকিছুই পোস্ট বা শেয়ার করবেন না

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ব্যবহারকারীদের মাঝে মাত্রাতিরিক্ত পোস্ট / শেয়ারের প্রবনতা দেখা যায়। আপনিও যদি তেমনই একজন হয়ে থাকেন। তবে এখানেই থামুন! এখন থেকে কোন কিছু পোস্ট করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন। কারণ, সবকিছু পোস্টের মাধ্যমে কখন কিভাবে বিপদ টেনে আনবেন। আপনি নিজেও বুঝে উঠার সুযোগ পাবেন না। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য জালিয়াতি চক্র সক্রিয়। আমরা কেউই সেসব দুষ্ট চক্রের লোকদের নজরের বাহিরে নয়। এছাড়াও আমরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই অন্যের পোস্ট শেয়ার করে গুজব ছড়িয়ে ফেলি। তাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোন কিছু পোস্ট কিংবা শেয়ারের আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন। বিচক্ষনতার সাথে ভেবেই পোস্ট করুন। এতে আপনি পাবেন নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া লাইফ।

অপরিচিতদের সাথে বন্ধু না হওয়া

আমরা প্রত্যেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য অপরিচিত মানুষদের সাথে যুক্ত। পর্দার ওপারের মানুষটিকে বাস্তবে না চিনেই আমরা তাঁদেরকে জায়গা দিয়ে দেই বন্ধু তালিকায়। আর এই ভুলের পরিনতি আমাদের কম বেশি সবারই জানা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারনা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, অর্থ লোপাট সহ অনেক ফাঁদে পড়ে যাই আমরা। যার মূল কারণ অপরিচিতদের সাথে অনলাইনে ঘনিষ্ঠতায় জড়ানো। তাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকতে পরিচিত মানুষ ছাড়া কোনভাবে অপরিচিতদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টিং হ্যাকিং -এর ভয় কমবেশি আমাদের সবার মাঝেই আছে। কিন্ত হ্যাকিং প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু? অ্যাকাউন্ট সিকিউরড রাখার জন্য অনেক সিকিউরিটি অপশন থাকলেও আমরা কোনটিই গুরুত্বের সাথে দেখিনা। অন্য বিভিন্ন সিকিউরিটি ফিচারগুলোর কথা আপাতত বাদ দিলেও। পাসওয়ার্ড কে গুরুত্বের সাথে আপনাকে দেখতে হবেই। কারণ একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডই আপনাকে হ্যাকারের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। আমরা অনেকেই পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে উদাসীন। খুব সহজ কোন পাসওয়ার্ড যেমনঃ আমরা বেশিরভাগ সময় আমাদের মোবাইল নম্বরটিই পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করি। যা খুব সহজেই অনুমান করতে পারে একজন হ্যাকার। যার ফলে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা অনেক সহজ হয়ে যায় হ্যাকারের কাছে। তাই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বলতে বিভিন্ন অক্ষর, নম্বর, চিহ্নের সমন্বয়ে তৈরি পাসওয়ার্ডকে বুঝানো হয়েছে। যা অনুমান করা কঠিন।

অযাচিত লিংক ক্লিক করতে সাবধান

হ্যাকিং অথবা ম্যালওয়ার বা ভাইরাস ছড়াতে বিভিন্ন ক্ষতিকারক লিংক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেগুলোতে ক্লিক করলেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন আপনি। কারণ, অযাচিত এসব লিংক কোনটা কাজ করছে আপনার অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নিতে। আবার কোনটা কাজ করছে আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়ার ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে। তাই, সন্দেহজনক কোন লিংকে কোনভাবেই ক্লিক করবেন না। মূলত, ফেক অ্যাকাউন্ট গুলো থেকেই ছড়ানো হয় এসব ক্ষতিকারক লিংক।

গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় রাখবেন না

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মানুষের গোপন তথ্য এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা দেখেছি। যা মূলত অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং -এর মাধ্যমেই ঘটে থাকে। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে হ্যাকার সেখানে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই, ব্যক্তিগত জিনিস সবসময় ব্যক্তিগতই রাখুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত জিনিস সেভ করে রাখা মোটেও নিরাপদ নয়। গুগল ড্রাইভের মতো ক্লাউড স্টোরেজ অথবা ব্যক্তিগত ডিভাইসে ব্যক্তিগত তথ্য রাখা তুলনামূলক নিরাপদ।

আপনার মতামত দিন

দয়া করে আপনার মতামতটি লিখুন
দয়া করে আপনার নামটি লিখুন