সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে!

231
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া

আমরা মানুষরাই যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য দায়ী তা কমবেশি আমরা সবাই জানি। কিন্ত ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেও যে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়াচ্ছি আমরা। একথা কি কখনো মাথায় এসেছে? অবশ্যই না! কারণ, অনলাইন প্লাটফর্মগুলো পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। আর সেকারণেই আমাদের নজর এড়িয়ে গেছে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা কিংবা ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Global Warming। বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ছে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী। যার পেছনে দায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রার নেতিবাচক পরিবর্তন। তাই, বৈশ্বিক এই সঙ্কট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়েছে। কারণ, এই অবস্থার উন্নতি না ঘটলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরাই আমাদের পৃথিবীতে থাকতে পারব না! এতোদিন আমরা শুধু জানতাম, শুধুমাত্র গাড়ি কিংবা ফ্যাক্টরির ধোঁয়াই দায়ী এই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য। কিন্ত আজ আমরা জানব, ডিজিটাল পদ্ধতিতেও কিভাবে এই তাপমাত্রা বাড়ছে সেই বিষয়ে। এই যেমন ধরুন, ফেসবুকের একটা পোস্টও পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে চলছে। শুধু ফেসবুক পোস্টই না! লাইক দেয়া, কমেন্ট করা, ই-মেইল চালাচালি কিংবা মেসেজিং এর মতো অনলাইনের যেকোন অ্যাক্টিভিটিই বিশ্বের তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলছে। কিন্ত, মাথায় আসছেনা যে, কিভাবে এটা সম্ভব? তবে চলুন, জেনে নিই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে যা যা ক্ষতি হচ্ছে এবং কিভাবে সেটা বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়িয়ে চলছে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

  • এক গবেষনা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ব্রিটেনে প্রতিদিন ৬ কোটি ৪০ লাখ অপ্রয়োজনীয় মেইল আদান প্রদান করা হয়। যার মধ্যে বেশিরভাগই ‘থ্যাংক ইউ’ মেইল। এসব মেইলের জন্য প্রত্যেক বছর ১৬ হাজার ৪৩৩ টন কার্বন নির্গমন হয়ে থাকে।
  • শুধু ব্রিটেনেই অপ্রয়োজনীয় মেইলগুলোর জন্য যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয়। তা ৩ হাজার ৩৩৪টি ডিজেলচালিত গাড়ির নির্গমন হওয়া কার্বনের সমান!
  • অনলাইনে ৩০ মিনিটের একটা ভিডিও দেখলে দেড় কিলোগ্রামেরও বেশি কার্বন নির্গমন হয়।
  • প্রতিবছর একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী গড়ে ২৯৯ গ্রাম কার্বন নির্গমন করে থাকেন।

কিন্ত…. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কিভাবে কার্বন নির্গমন হয়?

ই-মেইল, ফেসবুক, অনলাইন ভিডিও এসবের সাথে কার্বনের সম্পর্কটা কোথায়? এই প্রশ্ন নিশ্চই এতক্ষণে আপনার মাথায় খচখচ করছে! তবে চলুন, জেনে নেয়া যাক অনলাইনে প্রতিটা কাজের জন্য কিভাবে কার্বন নির্গমন হয়ে থাকে!

আমরা অনেকেই হয়ত জানি, আমাদের অনলাইন এক্টিভিটিগুলো বিভিন্ন ডাটা সেন্টারে গিয়ে জমা হয়। যেমনঃ ফেসবুকে দেয়া আপনার পোস্ট, মেসেজ, লাইক, কমেন্টসহ প্রতিটা এক্টিভিটি ফেসবুকের ডাটা সেন্টারে সংরক্ষণ করা থাকে। আবার আপনি যদি জিমেইল ব্যবহার করে কাউকে মেইল করেন সেটা আবার গুগলের ডাটা সেন্টারে জমা থাকে। এভাবেই অনলাইনে আমাদের প্রতিটা ছোট্ট ছোট্ট কাজকর্মও ঐসব ডাটা সেন্টারে জমা থাকে। অবাক করা বিষয় হল, এই ডাটা সেন্টারগুলোর শক্তি লাখ লাখ পার্সোনাল কম্পিউটারের সমান। যা চালাতে একটি ছোট শহরের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ লেগে থাকে। আরও অবাক করা তথ্য হল, গোটা বিশ্বে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ এই ডাটা সেন্টারগুলোই ব্যবহার করে থাকে। কয়লা অথবা গ্যাস দিয়েই যে বেশিরভাগ বিদ্যুতের উৎপাদন হয় এবং সেগুলো যে কি পরিমাণ কার্বন নির্গমন করে পরিবেশ দূষিত করছে, সেটাও নিশ্চই আমাদের অজানা নয়। ফলে এভাবেই আমাদের ডিজিটাল কাজকর্মগুলোও পরোক্ষভাবে বাড়িয়ে তুলছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা।

আপনার মতামত দিন

দয়া করে আপনার মতামতটি লিখুন
দয়া করে আপনার নামটি লিখুন