সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করবেন যেভাবে

141
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়! বিষয়টি পুরোনো হলেও আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই নতুন বলা চলে। উন্নত দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো থেকেই জীবিকা নির্বাহ করে অনেকেই। অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক পেশাও এখন স্বীকৃত উন্নত বিশ্বে। তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকতা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোখ মাধ্যমগুলো থেকে বাংলাদেশীরাও আয় করছে হাজার হাজার ডলার। শুধু বৈদেশিক মূদ্রা বললে ভুল হবে। দেশের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন ব্যবসা জমে উঠেছে এই ভার্চুয়াল জগতে।

ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের খবরগুলো এখন অনেকটাই পুরোনো। কিন্ত বেশিরভাগ মানুষই জানেনা, কিভাবে আয় হয় এসব অর্থ। তাই ভার্চুয়াল ভুবনের আজকের পোস্টে থাকছে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের উপায় সমূহ।

ভিডিও বানিয়ে আয়

ইউটিউব থেকে আয় বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তার দিক থেকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হল এই ইউটিউব। নতুন নতুন ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে ইউটিউবে পাবলিশ করে আয় করতে পারবেন আপনিও। ইউটিউব থেকে আয়ের এই পদ্ধতিকে ‘ইউটিউব মনিটাইজেশন’ বলা হয়ে থাকে। আর যারা ইউটিউবে ভিডিও বানায় তাঁরা ইউটিউবার হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে ইউটিউব থেকে আয়ের বিষয়টা বেশ স্বীকৃত। ইতিমধ্যে অনেক দেশী ইউটিউবার তাঁদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে এটিকে। উল্লেখ্য যে, ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও এখন ভিডিও থেকে আয় করা যায়।

প্রোডাক্ট / সার্ভিস সেল করে আয়

ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসারই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পদচারনা দেখা যায়। কারণ, বিশাল সংখ্যক গ্রাহককে একসাথে পাওয়া সম্ভব কেবল সোশ্যাল মিডিয়াতে। তাই, সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন প্রডাক্ট বা সার্ভিস সেল করে আয়ের একটা বিশাল সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই এফ-কমার্স বেশ জনপ্রিয় আইডিয়া হয়ে উঠেছে। এফ-কমার্স বলতে ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স বা অনলাইন শপকে বুঝায়। আমাদের দেশে যেহেতু ফেসবুকই সর্বাধিক ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। তাই শুধু এই প্লাটফর্মকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে অনেক অনলাইন শপ। অর্থাৎ ই-কমার্স ওয়েবসাইট ছাড়াই শুধুমাত্র একটি ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ বানিয়েই ই-কমার্স ব্যবসা করছে অনেকেই। আপনিও চাইলে খুলে ফেলতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম কেন্দ্রিক কোন অনলাইন শপ। এক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য সঠিক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম বেছে নেয়াটা অনেক জরুরি।

ওয়েবসাইট ভিজিটর থেকে আয়

সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো থেকে আপনি পাবেন কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে ভিজিটর পাঠানোর দারুণ সুযোগ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগালেই অনেক ধরনের আয়ের দরজা খুলে যাবে আপনার কাছে। ফেসবুক, পিন্টারেস্ট, রেডিটের মতো সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ওয়েবসাইটের জন্য ভিজিটর নেয়ার আদর্শিক প্লাটফর্ম। এসব সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যেহেতু কোটি কোটি মানুষের আনাগোনা। তাই এই বিশাল সংখ্যক মানুষ থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিতে পারবেন সহজেই। আর এক্ষেত্রে আয় আসবে মূলত আপনার ওয়েবসাইট থেকে। ওয়েবসাইট মনিটাইজেশনেরও অনেক উপায় আছে। যেমন: গুগল অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, প্রোডাক্ট/সার্ভিস সেল ইত্যাদি। তাছাড়া আপনার ওয়েবসাইট না থাকলেও আপনি অন্য ওয়েবসাইট মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাঁদের কাছে ভিজিটর পাঠিয়েও আয় করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস থেকে আয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ছোট-বড় কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার প্রতিযোগিতায় থেমে নেই। কিন্ত সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে সক্রিয় থাকা এবং প্রফাইলগুলো ম্যানেজ করাটা বেশ ঝামেলাপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীদের কাছে। আর এই সমস্যার সমাধান করতে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া এজেন্সি। মাঝারি এবং বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রফাইল চালানোর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এজেন্সিগুলোর উপর। তাই এই নতুন ব্যবসাতে নেমে পড়তে পারেন আপনিও। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্যের কারণে সোশ্যাল মিডিয়া এজেন্সি হতে পারে সম্ভাবনাময় আয়ের এক উৎস। এছাড়া, এজেন্সি না খুলে ছোট পরিসরেও আয়ের সুযোগ রয়েছে এই সেক্টরে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বেচতে হবে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস। এছাড়াও, ফাইভারের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে আয়ের সুযোগ তো থাকছেই।

অন্যান্য উপায়ে আয়

মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিমধ্যে বিশাল জায়গা করে নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এর আধিপত্য বাড়ছে প্রতিনিয়তই। সেই সাথে বিভিন্ন নতুন উপায়ে আয়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেমন: অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই বিভিন্নভাবে হয়ে গিয়েছেন সেলিব্রেটি। ফলে তাঁদের জন্য খুলে গিয়েছে অংখ্য আয়ের পথ। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক-ইউটিউবে ভাইরাল হয়ে রাতারাতি সেলিব্রেটি বনে গেছেন মাহতিম সাকিব। তাঁর গান তোলপাড় করেছে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া জগত। তারপরের গল্পটা সবারই জানা। মাহতিম সাকিব এখন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে জীবন বদলে যাওয়া মানুষের সংখ্যাটা এখন কম নয়। তাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়ের অসংখ্য পথ খুলছে প্রতিদিনই। মেধাকে কাজে লাগালেই পাওয়া যাবে সেসবের সন্ধান। সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা -কে পেশা বানিয়ে নেওয়ার এখনই সময়!

ভার্চুয়াল ভুবনের আজকের লেখায় তুলে ধরলাম, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের কিছু উপায় সমূহ। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করার টিউটোরিয়াল শেয়ার করা হবে। সাথেই থাকুন…

2 টি মতামত

আপনার মতামত দিন

দয়া করে আপনার মতামতটি লিখুন
দয়া করে আপনার নামটি লিখুন