সমাজের নতুন সিগারেট হচ্ছে ফেসবুক : মার্ক বেনিওফ

240
ফেসবুক সিগারেট মার্ক বেনিওফ

সময়ের সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রতি আসক্তি বেড়েই চলছে মানুষের। সম্প্রতি মার্কিন ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার জায়ান্ট সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক বেনিওফ ফেসবুক -কে ‘সমাজের নতুন সিগারেট’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন।

এর আগে বিতর্কিত এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ভেঙে দেয়া এবং তা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। প্রযুক্তিবিশ্বের ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত মার্ক বেনিওফ সুযোগ পেলেই তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে দু-চার কথা শুনিয়ে দিতে পছন্দ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের তীব্র সমালোচনা করেন এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

ফেসবুক সিইও -কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন:

“আপনি দেখতে পারছেন ফেসবুক আমাদের সমাজের জন্য নতুন সিগারেট হয়ে উঠেছে। এর কার্যক্রম এতটা গভীরে প্রবেশ করেছে যে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্লাটফর্মটিকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা খুব জরুরি।”

সেলসফোর্সের সিইও বেনিওফের দাবি, ফেসবুক তাঁদের প্লাটফর্মের বিজ্ঞাপনের সত্যতা নিয়ে আন্তরিক দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁরা এ বিষয়ে মনোযোগী নয়। ফেসবুকের কার্যক্রমে ভরসা রাখতে ভয় পাই। কারণ প্লাটফর্মটির মূল ভেন্ডররা নিজেরাই বলতে পারে না, ‘আস্থাই আমাদের মূল ভিত্তি।’

বেনিওফ আরও বলেন:

“বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের প্রকৃত ভূমিকা কী, তা পুনর্মূল্যায়ন হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ছাড়াই চলছে ফেসবুক। তাদের কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই। যে কারণে টানা কয়েক বছর ধরে সর্বাধিক বিতর্কিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।”

গত অক্টোবরে এক টুইটে তিনি বলেছিলেন:

“অবশ্যই বিতর্কিত নানা কার্যক্রমের জন্য ফেসবুককে এখন দায়ী করা উচিত। ফেসবুক এখন একটি প্রকাশক প্রতিষ্ঠান। কাজেই এর প্লাটফর্মে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার জন্য তাঁদেরকে দায়ী করা উচিত। আইনি সিদ্ধান্তের আলোকে আমাদের কার্যক্রমের মান ঠিক রাখা উচিত। ফেসবুক সমাজের নতুন সিগারেট, এটা নেশার মতো, আমাদের ও তরুণ প্রজন্মের জন্য খারাপ, এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না।”

তিনি দাবি করেন, ফেসবুক একের পর এক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছে। প্লাটফর্মটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে ভেঙে দেয়া উচিত। কারণ ফেসবুক বর্তমানে সবচেয়ে বড় সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এটির নানা প্রভাব রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও মার্কিন সিনেটে ফেসবুক ভেঙে দেয়ার দাবি উঠেছিল। এতে বলা হয়, বৃহৎ এই প্লাটফর্মটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারে।

আপনার মতামত দিন

দয়া করে আপনার মতামতটি লিখুন
দয়া করে আপনার নামটি লিখুন