জেনে নিন আপনি কতটুকু ফেসবুক আসক্ত!

198
ফেসবুক আসক্তির পরীক্ষা

ফেসবুক আসক্ত মানুষ আমরা কম-বেশি সবাই। এই আসক্তি এখন বাস্তব জীবনের নেশার চাইতেও কম নয়! অনেক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মটিকে নেশার চাইতেও ক্ষতিকারক হিসেবে মনে করছেন। সম্প্রতি মার্কিন ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার জায়ান্ট সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক বেনিওফ ফেসবুক -কে ‘সমাজের নতুন সিগারেট‘ বলেও কড়া সমালোচনা করেছেন। ফেসবুক আসক্তিকে মনোবিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘Facebook Addiction Disorder (FAD)‘।

আমাদের জীবনে ফেসবুক যেভাবে জড়িয়ে আছে। তাতে ফেসবুক আসক্তিকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও তেমন কিছু নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফেসবুকের আধিপত্য এতটাই বেশি যে, দিনদিন মারাত্মক হুমকির একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্লাটফর্ম। আপনিও কি ফেসবুকে আসক্ত? জানতে যান আপনার ফেসবুক আসক্তির মাত্রাটা কতটুকু? ফেসবুক নিয়ে আপনার Addiction Score জেনে নিন ছোট্ট একটি পরীক্ষা দিয়ে!

ফেসবুক আসক্তি পরীক্ষা করবেন যেভাবে

আমরা কম-বেশি সবাই ফেসবুক আসক্ত। তবে এই আসক্তির প্রভাবটা একেকজনের জীবনে একেক রকম। যা নির্ভর করে আপনার ফেসবুক ব্যবহারের ধরনের উপর। তাই আপনার ফেসবুক আসক্তির মাত্রা জানতে আমরা শেয়ার করছি কিছু স্টেটমেন্ট। যার অপশন হিসেবে আছে শুধুমাত্র সত্য অথবা মিথ্যা। উত্তরগুলো মনে মনে দিয়ে ফেলুন। আর গুনে রাখুন কয়টি প্রশ্নের উত্তর ‘সত্য’ হয়। কারণ এর ভিত্তিতেই চিহ্নিত করা হবে আপনার ফেসবুক আসক্তির মাত্রা। উত্তর গুনে রাখার সুবিধার্থে খাতায় টুকে রাখতেও পারেন।

১। প্রকৃতপক্ষে আমি ফেসবুকে যতটুকু সময় দিতে চাই তার চেয়েও বেশি দিয়ে ফেলি। (সত্য / মিথ্যা)
২। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ফেসবুক নিউজফিড দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। (সত্য / মিথ্যা)
৩। আমি ফেসবুকে বেশি সময় ব্যয় করি বলে আমার পরিচিতজনরা প্রায়ই অভিযোগ করে। (সত্য / মিথ্যা)
৪। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াই আমি ফেসবুকে দৈনিক ২ ঘন্টার বেশি সময় দিয়ে থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
৫। কর্মক্ষেত্রে অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেসবুক চালানোর অনুমতি না থাকলেও আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য / মিথ্যা)
৬। একদিন ফেসবুক ছাড়া চলতে আমার খুবই কষ্ট হয়। (সত্য / মিথ্যা)
৭। ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিস্ট বড় করতে আমি চেস্টা করি। (সত্য / মিথ্যা)
৮। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টের অধিকাংশকই আমার বাস্তব জীবনে পরিচিত না। (সত্য / মিথ্যা)
৯। পড়াশুনা এবং কাজে ফেসবুকের জন্য আমার সমস্যা হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১০। ফেসবুকের জন্য আমার বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোতে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১১। আমি প্রায়ই ফেসবুকে গেমস খেলতে গিয়ে ১ ঘন্টার বেশি সময় কাটিয়ে ফেলি। (সত্য / মিথ্যা)
১২। আমার কোন ফেসবুক পোস্টে কেউ কমেন্ট না করলে আমার অস্বস্তিবোধ হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১৩। পরিচিতজনদের সাথে বাস্তবে কথা বলার চেয়ে ফেসবুকে চ্যাটিং করে কথা বলতেই বেশি ভাল লাগে। (সত্য / মিথ্যা)
১৪। ফেসবুক ছেড়ে দিতে অথবা কম সময় কাটাতে চেয়েও আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। (সত্য / মিথ্যা)
১৫। অনলাইনে অন্যান্য ওয়েবসাইটের চেয়ে আমি ফেসবুকেই বেশি সময় কাটাই। (সত্য / মিথ্যা)
১৬। বাসার কাজ এড়াতে আমি মাঝে মাঝে ফেসবুকে ব্যস্ত থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
১৭। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে আমার শখের কাজগুলোতে সময় কম দেয়া শুরু করেছি। (সত্য / মিথ্যা)
১৮। ফেসবুকে আমার অনেক বন্ধু থাকলেও নিজেকে প্রায়ই একা মনে হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১৯। পরিবার, বন্ধু কিংবা পরিচিতজনদের সাথে আড্ডার সময়েও ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য / মিথ্যা)
২০। সকালে উঠার পরপরই সর্বপ্রথম আমি ফেসবুক নোটিফেকশন চেক করে থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
২১। গতরাতে আমি ঘুমানোর আগে ফেসবুক চালিয়েছি। (সত্য / মিথ্যা)
২২। স্ট্রেস অথবা ডিপ্রেশন কাটাতে ফেসবুক ব্যবহারকেই বেছে নিয়ে থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
২৩। ফেসবুকের কারণে প্রায়ই অফিস, স্কুল/কলেজ অথবা অন্য কোন প্রয়োজনীয় কাজে যেতে দেড়ি হয়। (সত্য / মিথ্যা)
২৪। ফেসবুকে কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সে অ্যাক্সেপ্ট না করলে বিব্রতবোধ অথবা অস্বস্তিকর লাগে। (সত্য / মিথ্যা)
২৫। বন্ধুরা কে কি করছে তার নোটিফিকেশন পেতে আমি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছি। (সত্য / মিথ্যা)
২৬। কারো কাছে তাঁর ফেসবুক ফ্রেন্ড সংখ্যা আমার ফ্রেন্ড লিস্টের চেয়ে বেশি শুনলে আমার খারাপ লাগে। (সত্য / মিথ্যা)
২৭। আগামী ১ মাসের জন্য আমি ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভ করতে পারব। (সত্য / মিথ্যা)
২৮। বাস্তবে এবং ফেসবুকে কেউ একজন কি বলেছে তা নিয়ে আমি প্রায়ই কনফিউজড হয়ে যাই। (সত্য / মিথ্যা)
২৯। যখন আমি অবসরে থাকি অথবা উদাস লাগে। তখন আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য / মিথ্যা)

এবার জেনে নিন আপনি কতটুকু ফেসবুক আসক্ত…!

ফেসবুক আসক্ত

আশা করছি, আপনি উপরে উল্লেখিত সবগুলো প্রশ্নের উত্তর মনে মনে দিয়ে ফেলেছেন। এবার বলুন আপনার কতটি উত্তর ‘সত্য’ দিয়েছেন। আর সেটাই হল আপনার Facebook Addiction Score। এবার সেই স্কোরের সাথে নিচে উল্লেখিত মন্তব্য মিলিয়ে নিন। তাহলেই আপনি জেনে যাবেন, আপনি আসলে কতটুকু ফেসবুক আসক্ত!

০ থেকে ৫ এর মধ্যে যদি আপনার স্কোর হয়…
অভিনন্দন! আপনার মাঝে ফেসবুক আসক্তি বলে কিছু নেই! আপনি নিতান্তই ফেসবুকের একজন সাধারন ব্যবহারকারী। ফলে ফেসবুকের কোন প্রভাব আপনার জীবনে আপাতত নেই। তবে চেস্টা করুন আপনার এই ব্যবহার যেন কোনভাবেই বেড়ে না যায়! প্রত্যেকের ফেসবুক ব্যবহার আপনার মতোই হওয়া উচিত!

৬ থেকে ১০ এর মধ্যে যদি আপনার স্কোর হয়…
আপনি মোটামুটি লেভেলের ফেসবুক আসক্ত। আপনার দৈনন্দিন জীবনে ফেসবুক জড়িয়ে আছে। ফেসবুকে আপনি অনেক সময় ব্যবহার করলেও আপনি সেটার জন্য প্রায়ই অনুশোচনা করে থাকেন।

১১ থেকে ২০ এর মধ্যে যদি আপনার স্কোর হয়…
আপনি ফেসবুক আসক্ত! আপনি যে মাত্রায় ফেসবুক ব্যবহার করেন তা মোটেও ঠিক না। এর ফলে আপনি প্রায়ই বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। যা আপনাকে অন্য কাজগুলোতে অমনোযোগী করে তুলেছে।

২১ এর বেশি যদি আপনার স্কোর হয়…
ফেসবুকই জীবন, জীবন মানেই ফেসবুক! হ্যাঁ, ফেসবুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আপনার জীবন এখন এমন অবস্থাতেই আছে বলা চলে! একটা দিন ফেসবুক ছাড়া থাকাট যেন আপনার কাছে সাত সমুদ্র তের নদী পার হওয়ার মতো কঠিন কাজ। আপনার জীবনের আষ্ঠে পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মটি। দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আপনার। খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এই ফেসবুক আসক্তির কারণে বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোও টানাপোড়নের মাঝে চলে গিয়েছে। ফেসবুক ব্যবহার কমানো অথবা ছেড়ে দেয়া আপনার জন্য এখন সর্বাধিক জরুরী কাজ। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে এর ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ফেসবুক আসক্তি কমানোর পরামর্শ

ফেসবুক ছাড়া এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আপনি কোনভাবেই থাকতে পারবেন না। একথা আসলেই সত্য। তাই মাথা ব্যাথায় মাথা কেটে ফেলাটা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত সমাধান নয়। ফেসবুক এমন এক প্লাটফর্ম যা আপনাকে আসক্ত করবেই। তাই সেই আসক্তিতে ধরা না দেওয়াটাই আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ। জীবনে সফল হতে এবং বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোর মূল্যায়ন করতে ফেসবুকের ব্যবহার নিজের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার সর্বোচ্চ চেস্টা করুন। এছাড়া আপনার মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারের নেশাটাকে চাইলে ভাল কাজেও লাগাতে পারেন। যা হবে একটা স্মার্ট সল্যুশন। ফেসবুক ব্যবহার করে গোটা বিশ্বব্যাপী অনেকেই অসাধারন সব কাজ করছে। যেমনঃ অনেকেই ফেসবুকের নেশাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। কেউ কেউ ভোলান্টিয়ার হিসেবে পজিটিভিটি ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করছে। ফেসবুকের নেশাকে নিয়ন্ত্রনে না নিতে পারলে সেটাকে পেশা বানানোর চেস্টা করুন। এ ব্যাপারে পড়তে পারেন আমাদের লেখা আর্টিকেল: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করবেন যেভাবে

সতর্কতা: ফেসবুক আসক্তি টেস্টের ফলাফল এবং মন্তব্য সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। আপনার আসক্তির বিষয়ে আংশিকভাবে তুলে ধরার চেস্টা মাত্র।

আপনার মতামত দিন

দয়া করে আপনার মতামতটি লিখুন
দয়া করে আপনার নামটি লিখুন